বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ থেকে সেট-তত্ত্বের গুরুত্ব ভীষনভাবে পরিলক্ষিত হয়। গণিতের অনেক অসংলগ্ন চিন্তাভাবনা দূরীভূত হয় এবং সামগ্রিক ভাবে গণিত বিষয়টি যুক্তি ও তর্কের উপর নির্ভর করে একটি শক্তিশালী বিষয় রূপে আত্মপ্রকাশ করে।
কোনো বিষয়কে সংঞ্জা দিতে গেলে তা অন্য কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে দিতে হয়, কারন সংঞ্জা মাত্রই এমন একটি বিবৃতি (Stataement) যা নতুন ধারনাটিকে আগের কোনো ধারনার সাহায্যে প্রকাশ করে। তাই মূলগত (Basic) কোনো জিনিসের সংঞ্জা দেওয়া সম্ভব নয়। সেট-তত্ত্ব গণিতের মূলগত বিষয় হওয়ার জন্য এটির যথাযথ সংঞ্জা নেই। কাজের সুবিধার জন্য অনেকে বিভিন্নভাবে সেটের সংঞ্জা নিরুপণ করেছেন।
ক্যান্টরের ভাষায় - কয়েকটি নির্দিষ্ট, পরস্পর বস্তুসমূহের যে-কোনো সংখ্যক সংগ্রহকে সামগ্রিকভাবে সেট বলে।[A set is any collection of definite, distinguishable objects of our intuition or of our intellect to be conceived as a whole.]
সাধারনভাবে আমরা সেট বলতে পরস্পর বিভিন্ন সুসংঞ্জাত বস্তুসমূহের যে কোনো সংখ্যক সংগ্র্কে বুঝি। এখানে সুসংঞ্জাত (Well-defined) কথাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই কথাটির মাধ্যমে বোঝানো হয়, কোনো উপাদান x একটি বিশেষ সেট A-এর অন্তর্গত হবে বা অন্তর্গত হবে না। উদাহরন স্বরূপ বলা যায়, একাদশ শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা মাধ্যমিক পরীক্ষায গণিতে 60 এর বেশি পেয়েছে তাদের সেট তৈরি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে যে ছাত্র বা ছাত্রীটি 61 পেয়েছে, সে ওই সেটের একটি উপাদান (Element) বা সদস্য (Member), কিন্তু যে ছাত্র বা ছাত্রীটি 59 পেয়েছে, সে ওই সেটের একটি উপাদান বা সদস্য নয়। কিন্তু একাদশ শ্রেনীর বুদ্ধিমান ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কোনো সেট গঠন করা সম্ভব নয় কারন এক্ষেত্রে বুদ্ধিমান শব্দটি সুসংঞ্জত নয় অথাৎ বুদ্ধিমান শব্দটি দ্বারা বোঝানো সম্ভব নয় কোন ছাত্র ওই সেটের একটি উপাদান বা সদস্য হবে অথবা উপাদান বা সদস্য হবে না।